Ad Clicks : Ad Views : Ad Clicks : Ad Views :

বীর বিক্রম হেমায়েত উদ্দিন এর বীরত্বের গল্প!


লোকটা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছেন খবর পেয়ে রাজাকার-রা উনার স্ত্রীকে ধর্ষণ করার হুমকি দিলো।
লোকটা কোন হুমকিকে ভয় না পেয়ে দেশের জন্য দশের জন্য হাতে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে গেলেন দেশ স্বাধীন করবে বলে।

তবুওতো মনের ভিতর প্রিয় মানুষ গুলোর জন্য একটু চিন্তা,একটু ভয় থেকেই যায়।
সেই চিন্তা আর ভয়ের জন্য যুদ্ধের ময়দান থেকে বাড়িতে এলেন স্ত্রী সন্তানের খবর নেওয়ার জন্য।
এসে দেখলেন ওনার স্ত্রী সতীত্ব বাঁচাতে গলায় দড়ি দিয়েছে তবুও নিজের ইজ্জত রাজাকারদের হাতে তুলে দেন নাই,বাচ্চাদের লাশ ঘরের মেঝেতে পরে আছে।

এক সাগর শোক,কষ্টকে বুকে চাপা দিয়ে তিনি আবারো যুদ্ধের ময়দানে ছুটলেন
লক্ষ একটাই যেভাবেই হোক প্রাণের দেশ, বাংলাদেশ কে স্বাধীন করতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাঁচ হাজার মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে দুধর্ষ এক গেড়িলা বাহিনি গঠন করেছিলেন
যারা বরিশাল,ঝালকাঠি,গোপালগঞ্জ,ফরিদপুর,মাদারিপুর,
শরিয়তপুর আর বাগেরগাট এলাকায় দূর্দান্ত সাহসীকতার সাথে যুদ্ধ করে পাকিস্তানি হায়েনা আর তাদের সহযোগী রাজাকারদের রক্তে এদেশের মাটিকে রক্ষা করেছেন।

একদিন সরাসরি যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হায়েনার একটা বুলেন এসে লোকটার গালের একপাশ দিয়ে ঢুকে আরেকপাশ দিয়ে বের হয়ে গেল
ফিনকি দিয়ে রক্ত পরছিলো,লোকটার মুখের আট-টা দাঁত সেই বুলেটের আঘাতে পড়ে গেল।
তবুও লোকটা যুদ্ধ থামায় নি,অজ্ঞান হওয়ার আগ পর্যন্ত বুক উঁচু করে যুদ্ধ করে গেছে আর পাকিস্তানি হায়েনার দল পরাজিত হয়ে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গেছে।

লোকটা আর কেউ নোন
লোকটা হচ্ছেন হেমায়েত বাহিনির প্রধান বীর বিক্রম হেমায়েত উদ্দিন!

ওনাকে শুধু বাংলাদেশের নয় পুরো বিশ্বের মিলিটারির ইতিহাসের শ্রেষ্ট গেড়িলা প্রধান বললেও হয়তো কম হবে।


লোকটা ২০১৬ সালের ২২ ই অক্টোবর অনন্ত ঘুমে ঘুমিয়ে গেছেন।
দোয়া করি আল্লাহ ওনাকে সহ এ দেশের জন্য যুদ্ধ করা,দেশের জন্য জীবন দেওয়া সকল জানা অজানা মানুষ গুলোকে আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন!

COMMENT

  • Facebook
  • Twitter
  • Google+
  • Linkedin
  • Pinterest
This div height required for enabling the sticky sidebar